প্রখ্যাত ও বিশেষ ব্যক্তিত্ত্ব

হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরী

জন্মঃ ১৯০৬ সাল, ফেনী।মৃত্যূঃ ১৫ এপ্রিল, ১৯৬৬।

রাজনীতিক, সাংবাদিক, ফুটবল খেলোয়াড়: ফেনীর এ কৃতিপুরুষ ৪০এর দশক থেকে বাঙালী মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অন্যতম স্থপতি। ১৯৩৩ সালে কলকাতা থেকে ‘বুলবুল’ নামে তিনি একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে ফেনী অঞ্চল থেকে নির্বাচিত আইন সভার সদস্য এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম স্বস্বস্থ্যমন্ত্রী।

 
ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম
জন্মঃ ১৯২৫ সাল, লক্ষণপুর গ্রাম (বর্তমান সালাম নগর), দাগনভূঁঞা, ফেনী। মৃত্যূ: ০৭ এপ্রিল, ১৯৫২, ঢাকা।
মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সম্মুখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পুলিশের গুলিতে আহত হন। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৫২ সালের ০৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীন
জন্মঃ ৩১ মার্চ ১৯৩১ সাল,৩৬০,নাজির রোড, ফেনী (বর্তমানে শহীদ সেলিনা পারভীন সড়ক)।
মৃত্যূঃ ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহিত্যিক, কবি, লেখিকা, বুদ্ধিজীবী শহীদ সাংবাদিক সেলিনা্ পারভীন রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পাকিস্তানী ও তাদের এ দেশীয় দালাল রাজাকার, আ্লবদর বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। তিনি কর্মজীবনের শুরুতে ‘ললনা’ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘শিলালিপি’র প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ‘শিলালিপি’তে তিনি অক্ষয় অমর হয়ে থাকবেন সমস্ত অত্যাচারিত নারীদের সাহস ,শক্তি ও প্রেরণাদাত্রী হয়ে। মহাকালের শিলালিপিতে উৎকীর্ণ তার নাম অম্লান দীপ্তিতে উদ্ভাসিত থাকবে বিশ্ববাসীর কাছে।
শহীদুল্লাহ কায়সার
জন্মঃ ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৭ সাল, মজুপুর গ্রাম, ফেনী।
নিখোঁজঃ ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ থেকে।
সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার এর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। ১৯৫২- র ভাষা আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন। তার এ অনমনীয় সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেননি। বাংলা সাহিত্যে তিনি যথেষ্ট আলো ছড়িয়েছেন। উপন্যাস, কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, ভ্রমনকাহিনীসহ সাহিত্যের বহুমুখী সৃষ্টিশীল জগতে ছিল তার সদর্প পদচারণা। ‘সারেং বউ’ ‘সংশপ্তক’ এবং ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’ ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ ‘কুসুমের কান্না ‘চন্দ্রভানের কন্যা’ (গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত) ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ (ভ্রমন কাহিনী) পরিক্রমা (প্রবন্ধ সংকলন) তার উলে¬খযোগ্য গ্রন্থ।
জহির রায়হান
জন্মঃ ১৯ আগষ্ট, ১৯৩৫ সাল, মজুপুর গ্রাম, ফেনী। মৃত্যূঃ ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ ঢাকা।
মহান ভাষা আন্দোলনের একনিষ্ঠ এ কর্মী ২১ ফেব্রুয়ারির ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সময়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ১০ জনের একজন। পরবর্তীতে তিনি একজন সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে দিয়েছেন ভিন্নমাত্রিকতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সম্পৃক্ত করেছেন আধুনিকতার ধারায়। ‘বরফ গলা নদী’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ ,‘আর কতদিন’ ‘তৃষ্ণা’, ‘হাজার বছর ধরে’ প্রভৃতি তাঁর্ উল্লে¬খযোগ্য উপন্যাস এবং ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কাঁচের দেয়াল’ তাঁর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে তিনি প্রামান্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ নির্মান করেন যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৭১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি তাঁর অগ্রজ শহীদুল্লহ কায়সার এর খোঁজে বের হয়ে আর ফিরে আসেন নি।
ড. সেলিম আল দীন
জন্মঃ ১৯ আগষ্ট, ১৯৪৯ সাল, সেনেরখীল গ্রাম, সোনাগাজী, ফেনী। মৃত্যূঃ ১৪ জানুয়ারী,২০০৮
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক, নাট্যতত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়,নাট্যকার ও গবেষক:
কালজয়ী নাট্যকার বাঙালী সংস্কৃতির নবরুপের দ্রষ্টা-স্রষ্টা, খ্যাতনামা অধ্যাপক গবেষক আচার্য সেলিম আলদীন ছিলেন ঔপনিবেশিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও শিল্পনন্দনতত্বের সর্বগ্রাসী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মূর্তিমান প্রতিবাদ। বাঙালীর শিল্পতত্বের পাথুরে ভূমিতে পড়ে থাকা বাংলা নাটকের কঙ্কালে প্রাণের ফুল ফোটানো বাঙালী নাটকের বিশ্বায়নে অন্যতম পুরোধা। বাংলা নাট্য আঙ্গিকের ধারণক্ষমতা এবং এর বিচিত্র স্বভাব আবিষ্কারে, নাট্যভাষার ব্যাপক নবীকরণে, সংলাপে গভীর অর্থান্যাসে, দর্শনের নব নব দিগন্তের ছোঁয়ায় সমুজ্জ্বল এবং আঙ্গিকের নতুনতায় স্বতন্ত্র সৃষ্টির আলোক প্রভায় এবং বাংলা নাটকের ইতিহাস বিণির্মানে ও বিশ্বায়নে তিনি ছিলেন তন্নিষ্ট শিল্পী। তিনি প্রবর্তন করেন বিশেষ শিল্পরীতি কথনাট্য এবং প্রতিষ্ঠা করেন গ্রাম থিয়েটার। নাট্য মঞ্চায়ন,আঙ্গিক বিনির্মাণ, নাট্য ভাবনায় প্রতিনিয়ত তিনি অতিক্রম করেছেন নিজেকে । মুনতাসির ফ্যান্টাসী, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তন খোলা, প্রাচ্য, বনপাংশুল, নিমজ্জনের মত নাটক রচনা করে বাংলা নাটক ও নাট্যতত্বকে বিশ্ব নাটক ও নাট্যতত্বের পংক্তিভূক্ত করেছেন।
 
সাংবাদিক এবিএম মূসা
১৯৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফেনীর পরশুরাম থানার ধর্মপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তার শিক্ষাজীবন কেটেছে চট্টগ্রামের সরকারি মোসলেম হাইস্কুল, নোয়াখালী জিলা স্কুল, ফেনী কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। বিএ প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়েছেন চৌমুহনী কলেজ থেকে। কলেজে পড়াকালে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি চৌমুহনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘কৈফিয়ত’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। এ সময়ই জড়িয়ে পড়েন বাম রাজনীতিতে। নিয়মিত লিখতেন সাপ্তাহিক সংগ্রাম ও পাকিস্তান অবজারভারে। এ বি এম মূসা দীর্ঘ ৬৩ বছর ধরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। ১৯৫০ সালে দৈনিক ইনসাফ থেকে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু। ওই বছর তিনি ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান অবজারভারে রিপোর্টার, স্পোর্টস রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার অবজারভার বন্ধ করে দিলে তিনি সংবাদে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে তিনি অবজারভারে ফিরে যান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসি, সানডে টাইমস প্রভৃতি পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে তিনি রণাঙ্গন থেকে সংবাদ প্রেরণ করতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যবস্থাপক, মর্নিং নিউজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে এ বি এম মূসা ব্যাংককে অবস্থিত জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের (এসকাপ) এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগ দেন। দেশে ফিরে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন।পারিবারিক জীবনে এবিএম মূসা তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক। স্ত্রী সেতারা মূসা এদেশের নারী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। এবিএম মূসার পছন্দের সাংবাদিক অতীতে হ্যারি ইভান্স, বর্তমানে গার্ডিয়ানের রবার্ট ফিস্ক। সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এবিএম মূসা বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একুশে পদক (১৯৯৯), জেফারসন ফেলোশিপ (১৯৭০), কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়ন ফেলোশিপ (১৯৬১)।
বিশেষ ব্যক্তিত্ব

 

 
বেগম খালেদা জিয়া
এমপি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, বিরুধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন,
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহন করেন।তবে তার পৈত্রিক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়। তিনি এ জেলায় ফেনী ১ অাসনের সাবেক সংসদ সদস্য।তিনি প্রাক্তন প্রয়াত রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। তার স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয় রাজনিতীতে আত্নপ্রকাশ করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসাবে নির্বাচিত হন। অদ্যাবধি তিনি এ দ্বায়িত্বে আছেন। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৯৯৬-২০০১ সন পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদে বিরুধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। ২০০১ সারে জাতীয় নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হলে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী দ্বায়িত্বভার গ্রহন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি বিরুধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *